স্বপ্ন ছুয়ে দেখতে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ার কথা ছিল তার। কিন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে পড়ার পর তার মূহূর্তের মধ্য সকল স্বপ্ন যেন শেষ হয়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্য বুঝতে পারলেন তার পিঠের প্যারাসুটটি যে ভাবে কাজ করার কথা ছিল সেভাবে কাজ করছে না। প্যারাসুটের দড়িটা টান দেবার পর প্যারাসুটটি খুলছে না। এমন সময় কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না কি করবেন তিনি। এতো উচু থেকে লাফিয়ে পড়লে দেহের হাড় আস্ত থাকবে না। ভাবতে ভাবতে মাটির খুব কাছে চলে আসলেন। তখন মনে পড়লো বাড়তি একটা প্যারাসুট তো আছেই। দিলেন দড়ি ধরে টান কিন্তু ততোক্ষনে বড্ড দেরী হয়ে গেছে।
প্যারাসুটটি খুলে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। সোজা মাটিতে আছড়ে পড়লেন। ছয় ফুট দীর্ঘ দেহটি মেরুদন্ড দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছে ৩টি কশেরুকা সেদিন মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি।
ভাগ্যের জোরে দ্রæত হেলিকপ্টারে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারনে জানটা বেচে গিয়েছিল তার । এই দূর্ঘটনার পর ধরে নেওয়া হয়েছিল তিনি আর হাটতে পারবেন না। কিন্তু সেই দূর্ঘটনায় তার জীবনের মোড় একেবারেই বদলে দিলো।
দূর্ঘটনার কবলে পড়ার ঠিক দেড় বছরের মাথায় সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ অভিযাত্রী হিসাবে নিজের নাম লেখালেন এভারেষ্টের চড়ায়।
আটলান্টিকের গা ঘেষে বেড়ে উঠা আয়ারল্যান্ডে ছোট শহর ডোনাদিতে জস্মগ্রহন করেছিলেন অদম্য অভিযাত্রিক এড ওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস। যাকে আমরা চিনি এ্যাডভেঞ্চার বেয়ার গ্রিলস নামে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠা এই রোমাঞ্চ প্রেমী মানুষটি চাইলেই পারতেন তার বাবা কিংবা নানীর রাজনৈতিক উত্তরসূরী হিসাবে অনায়াসে জীবন পাড় করে দিতে। কিন্তু এ্যাডভেঞ্চার নেশা যেন সকল কিছু ছাপিয়ে প্রতি মুহূর্তের এক অভিযাত্রিক জীবনের পথে পা বাড়াবার উতসাহ দিয়ে গেছে তাকে।
কিশোর বয়সে নেতিৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্কাউট দলকে। পড়াশোনা শেষ করার পর ছুটে গিয়েছিলেন ভারতে আর্মড র্ফোসের সৈন্যদের রোমাঞ্চকর জীবন তার কাছে বেশ আর্কষনীয় বলে মনে হয়েছিল। সিকিম আর দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে প্রান্তরে ঘুরে রেড়ানোর বেয়ার গ্রিলস ভারতের নাগরিক না হওয়ার কারনে আর্মড র্ফোসে সুযোগ না পেয়ে শেষ মেষ ঢুতে পড়েন ব্রিটিশ আর্মিতে। তারপর ব্রিটিশ আর্মি স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে ৩ বছরের জীবন তাকে পরিনত করলো ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্কাইডাইভার। আর সেই স্কাইডাইভার করতে গিয়েই জাম্বিয়ায় প্যারাসুটে এ্যাক্সিডেন্ট।
অত:পর ব্রিটিশ আর্মি থেকে অবসর নেন। এর এই অকাল অবসরের কারনে হয়ত জীবনের মোড় ঘুরে গেল তার। শুরু হলো নতুন অভিযানের গল্প। এ্যাভারেষ্ট জয় করার পর গ্রেড ব্রিটেনে মানুষের চোখে অনুপ্রেরনার এক অন্যতম উধাহরন হিসেবে তুলে ধরলো।
ইংল্যান্ডে এক দাত্বব্য সংস্থার মাস্ক নিয়েই বেলুনে চড়ে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ডিনার করেছিলেন তিনি। তবে এ্যাভারেষ্ট জয় কিংবা মেরু অভিযান এর কোনটিই বেয়ার গ্রিলসকে ততটা খ্যাতি এনে দিতে পারেনি। যতোটা এনেদিয়েছিল ডিসকভারি চ্যানেলের ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড নামক অনুষ্ঠানটিতে।
প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে নিজেকে ঠিকিয়ে রেখে বেচে ফিরা যায় তা গোটা বিশ^বাসীর কাছে তুলে ধরতেই ক্যামারাকে সাক্ষী রেখে পাড়ি দিয়েছেন। মানব পদ চিহ্ন পড়েনি এমন সব এলাকাতেও চালিকা শক্তি হিসাবে ভক্ষন করেছেন নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্ট পোকামাকড়, বাদ যায়নি ভয়ঙ্কর বন্য প্রানিরাও। মরুভ’মিতে তপ্ত রোদে ঠিকে থাকার তাগিদে নিজের মূত্র ও পান করেছিলেন সাপের খোলসে জমিয়ে। কিন্তু সেই ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড প্রতিটা চিত্র যে সত্য তা নয়।
কারন ঘন জঙ্গলে কিংবা রুক্ষ মরুভ’মিতে বেয়ার গ্রিলস একাই পাড়ি দিলেও, তার সেই অভিযান গুলোতে বিশ^বাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য কয়েকজনের একটি দল সাথে থাকতো এবং তারাও এক পযায়ে বেয়ার গ্রিলসের সাথে থাকতে থাকতে দু:সাহসিক হয়ে উঠে।
তবে টেলিভিশনের পর্দায় মুগ্ধতা নিয়ে আমরা যে পর্ব গুলি দেখি বেয়ার গ্রিলসের সেই অভিযান গুলি মিথ্যা নয়। জীবনের মোড় পাল্টে দেওয়া সেই ভয়াবহ প্যারাসুট এ্যাক্সিডেন্টকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একটি কথায় বলেছিলেন তিনি-
If you risk nothing
You will going nothing








