নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একজন সফল ব্যবসায়ীর প্রতিচ্ছবী। তিনি কতটা হ্রদয়বান সে গল্প সকলের জানা। বয়স আশির কোঠা অতিক্রম করলেও ভারতবর্ষে অন্যতম সফল ব্যবসায়ী টাটা Group চেয়ারম্যান রতন টাটা সফল ভাবেই সামলেই যাচ্ছেন তার কর্মজীবন।
যৌবনের তিনি ছিলেন বেশ সুদর্শন পুরুষ। তবে এমন খ্যাতি অর্থ সম্পদ আর সুর্ন্দয থাকা স্বত্তেও তিনি এখনও অবিবাহিত কিন্তু কেন এই মানবদরদী মানুষটি কি সত্যিই কোন দিনও কোন লালসাময়ীর প্রেমে পড়েননি? হ্যা পড়েছিলেন। মানবিকতার আড়ালে লুকানো প্রেমিক পুরুষ রতন টাটার অজানা সেই গল্পই জানবো আজ ১৯৯১ সালে জেআরডি টাটার পর টাটা Group ৫ম চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন রতন টাটা।
দরদী এই মানুষটির অর্জনের খাতায় রয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার পদ্মভূষন, পদ্মবিভ’ষন এর মতো বড় বড় সম্মানোনা। এছাড়া ব্যবসায়ীক সাফল্যর স্বীকৃতিস্বরুপ রতন টাটার ঝুলিতে আছে সিএনএন-আইবিএম ইন্ডিয়ান অফ দ্যা ইয়ার এর মতো খেতাবও। কর্মজীবনের এতো সফল একজন ব্যক্তি হওয়া স্বত্তেও কেন প্রেমে ব্যর্থ হোন তিনি।
একটি ফেসবুক পেজের সাক্ষাতকারে একবার রতন টাটা নিজেই তার জীবনের সেই সুন্দর স্মৃতিময় অধ্যায়ের গল্প বলেছিলেন। প্রেম তার জীবনের এসেছিল। যৌবনের একটা সময়ে তিনিও প্রেমে পড়েছিলেন। এমনকি বিয়ের কথাও ছিল ঠিকঠাক। কিন্তু শেষ মেষ তা আলোর মুখ দেখে নি।
১৯৩৭ সালে গুজরাটে সুরাটে জন্মগ্রহন করেন ভারতবর্ষে অন্যতম ধনকুবের মালিক রতন নাভেল টাটা। রতন টাটার বয়স যখন ১১ বছর তখন তার বাবা মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর দাদীর কাছে বেড়ে উঠেন রতন টাটা ও তার অন্যান্য ভাইয়েরা। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দাদী তার পাশে ছিলেন। ছোটবেলায় দাদীর নীতি নৈতিকতা আজও রতন টাটাকে পথ দেখায়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন এক কলেজে আর্কিটেকচার হিসাবে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে। সে সময় দাদীর সহযোগীতায় আর্কিটেকচার নিয়েই স্মাতক সম্পন্ন করেন। স্মাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে লস এ্যাঞ্জেলেসে দুই বছর কাজ করেছিলেন। সেই সময় এক সুন্দরী রমনীর সাথে পরিচয় তার। রতন টাটার মতে তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টি কেটেছিল সেই ভালোবাসার তরুনীর সাথে। তার কাছে তখনও বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ সবই ছিল। কিন্তু বিয়ের কথার সময় হঠাত করে তার দাদী বিষন অসুস্থ হয়ে পড়ে। রতন টাটা দাদীকে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন। তবে তাদের প্রেমে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। কথা ছিল রতন টাটা দেশে ফিরার পর তার প্রেমিকা ভারতে আসবে এবং বিয়ে করে ভারতে সুখের সংসার সাজাবেন। এই প্রস্তাবে রাজিও হয়েছিল সেই মার্কিন তরুনীর পরিবার। কিন্তু এই প্রনয়ে পথের কাটা হয়ে দাড়ায় ভারত ও চীন যুদ্ধ।
১৯৬২ সালে ভারত ও চীন যুদ্ধ শুরু হলে রতন টাটার প্রেয়সীর পরিবার আর তাদের মেয়েকে যুক্ত রাষ্ট্র থেকে ভারতে পাঠালেন না। ভেঙ্গে যায় তাতের সেই সুন্দর সম্পর্ক। তারপর আর বিয়ের পিড়িতে বসা হয়নি রতন টাটার, আজীবন চিরকুমারই রয়ে যান, সেই মহিমান্বিত পুরুষ রতন টাটা।




