মেসির জীবনের প্রথম চুক্তি ন্যাপকিন পেপার দিয়ে।


জীবনের প্রথম চুক্তি হওয়ায় হাতের কাছে কনো কাগজ না থাকায় ন্যাপকিন পেপার দিয়ে হয় চুক্তি। আর বার্সোলোনার সাথে ন্যাপকিন পেপার দিয়ে চুক্তি করা ছেলেটি আজকের কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। আর্জেটিনার এক শ্রমজীবী পরিবারের জন্মগ্রহন করেন তিনি। বাবা ছিলেন ষ্টিল কারখানার সামান্য কর্মজীবী ও মা ছিলেন পরিছন্ন কর্মী। শৈশব থেকে ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন মেসি। ছোটবেলা থেকে তার ফুটবলের নিপূন কৌশল সকলকে বিমুগ্ধ করে। অসাধারন নৈপূন্য কারনে মাত্র ৫ বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাবে ঢাক পড়ে মেসির। 


কিন্তুু সব সম্ভবনার মধ্য দিয়েও চারিপাশ দিয়ে নেমে আসলো সমস্যা। হরমোন জনীত সমস্যার কারনে সমবয়সী বাচ্চাদের মত দৈহিক বৃদ্ধি হচ্ছিল না। ১১ বছর বয়সে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে শুরু করে। শেষে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করার পড়ে জানা গেলে তার শরীরে রয়েছে দৈহিক বৃদ্ধি না হওয়া হরমোন জনীত রোগ। যার কারনে তার দেহের বৃদ্ধি একেবারে কমে যায়। হরমোন জনীত এই সমস্যার কারনে ৩ বছরের বেশি সময় ধরে  প্রতিদিন রাতে এক যন্ত্রনাদায়ক এনজেকশন পায়ে পুশ করা হতো। এই রোগের চিকিৎসা ছিল ব্যয়বহুল প্রায় ৯০০ ডলার গুনতে হতো তার পরিবারকে । এতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ চালানো এ দরীদ্র পরিবারের পক্ষে এক সময়ে অসম্ভব হয়ে পড়ে। মেসির চেনা জানা স্থানীয় ক্লাব গুলি ইচ্ছা পোষন করলেও সে রকম সারা তার পরিবার পায় নি। পরর্বতীতে রিভার প্লেট নামক একটি ক্লাব মেসিকে নিতে আগ্রহী হলেও চিকিৎসার খরচ বহন করার মত তাদের সামর্থ ছিল না।  

আর তখনই মেসির সাথে  পরিচয় হয় বার্সোলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচের। মেসির যাবতীয় চিকিৎসা খরচ যোগানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার বাবার সাথে চুক্তি করেন। বাবা ছেলে পাড়ি জমান সুদূড় বার্সোলোনায় এবং অল্প কিছু দিনের মধ্য তার অসাধারন ফুটবলের নৈপুন্য কারনে মেসি সকলের নজড়ে চলে আসেন। হয়ে উঠেন এফসি বার্সোলোর তরুন একাডেমীর  অধিনায়ক। 

এরপর সময় গড়ার সাথে সাথে ২০০৪ সালের ১৬ই অক্টোবর মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সোলোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে অভিষেক হয় মেসির। অভিষেকের সাত মাস পর ক্লাবের জার্সিতে প্রথম গোল করেন মেসি। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ফুটবল ওয়ান্ডারকে। 

মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি জিতে নিয়েছিলেন ব্যালন ডি আর এবং ফিফা বর্সসেরা ফুচটবলের খেতাব। ২৪ বছর বয়সে বার্সোলোনায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে জায়গা করে নেন। ২০১৬ সালে club ও জাতীয় দল দিলে তার জুড়িতে মোট গোল সংখ্যা দাড়ায় ৫ শত বেশি। 


ব্যক্তিগত জীবরে তিন সন্তানের জনক মেসি শত ব্যস্ততার মাঝেও তার পরিবারের সময় দেন সমান তালে।  মেসি নিজের অবস্থান থেকে সামাজিক দ্বায়বদ্ধতাসহ ইউনিসেফের সূভেচ্ছা দূত হিসাবে কাজ করেন। এছাড়া শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধূলার সুযোগ সৃষ্টি করতে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের দাত্বব্য প্রতিষ্ঠান। অবদান রাখছেন আর্জেন্টিনার চিকিৎসা ক্ষেত্রেও। এখনও পর্যস্ত ছয়বার ব্যালন ডি অর জিতেছেন মেসি যার মধ্যে চারটি জিতেছেন টানা চার বছর।  গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে সর্বোচ্চ গোলদাতা নামটি তার। তবে এতো সব প্রাপ্তি ঘিরে কোথাও যেন একটা অপ্রাপ্তি থেকে গেছে মেসির সেটা হলো নিজের দেশকে ওয়াল্ড কাপ সিরোপাটি উপহার দেওয়া। 


তবে অনেকের অজানা গত ৭ই জুলাই কোপা আমেরিকা সেমিফাইনাল মেসির রক্ত ঝড়ানো প্রচেষ্ঠার গল্প। খেলা শুরু ১৫ মিনিট সেই সময় কলোম্বিয়ার প্রতিরোধ্য ডিফেন্সের আঘাতে পা থেকে রক্ত ঝড়তে থাকে। মেসি প্রতিপক্ষ ও রেফারিকে বুঝতে দেয়নি তার পা থেকে রক্ত ঝড়ছে এবং সে ইনজুরি। প্রথম ৭ মিনিটের গোল আসে তারিই সহজ পাশের মাধ্যমে। এই ভাবে তিনি প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেন। 

অবশেষে এই খুদে কিংবদন্তি ফুটবলের নৈপূন্নতার মাধ্যমে World তাক লাগিয়ে যাচ্ছে এবং অগনিত দর্শকের হ্রদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। আজিবন বেছে থাক ফুটবলের রাজা লিওসেল মেসি। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন