জেল খানা থেকে বার বার পালিয়ে আসা ছিল যেন তার ছেলে খেলার মত।

 


হ্যা। আজকে এমন একজন অপরাধী মানুষের গল্প বলবো, জেলখানাতে যাওয়া আর পালিয়ে আসা ছিল তার কাছে ছেলে খেলার মত। একবার দুইবার নয় তিনি বারো বার পালিয়েছেন প্রহরিদের ফাকি দিয়ে। কি দু:সাহসিক অভিযান। তবে যতবার তিনি জেল থেকে পালিয়েছেন ঠিক ততবার তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন জেগে যায় কেন তিনি এতবার জেলে গিয়েছিলেন। কে সেই এই মানুষ, আসুন আজকে তার গল্প শোনা যাক।  

তিনি সেনেগালে গরীব পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন । ছোট বেলা থেকে চোর পুলিশ খেলে বড় হওয়ায় পড়াশোনাটা আর ঠিকমত হয়নি। এক সময়ে নিজেকে তিনি বরেন্য ব্যবসায়ী হিসাবে দাবী করলেও, একাধিক বার ডাকাতির কারনে গ্রেফতার হন। প্রাতিষ্ঠানিক কম্পিউটার প্রশিক্ষনে কোন সার্টিফিকেট না থাকলেও কাজের সূত্রে কম্পিউটারে পরিচালনায় তার চলে আসে বিশেষ দক্ষতা। সেনেগালের রাজধানী ডাকার থেকে  ১৬০ কি:মি: ডিয়োরবেল শহরের বাসিন্দা মদুউ। 


স্কুলে যাবার বয়সে প্রথম চুরির দায়ে আটন হন পুলিশের কাছে। সেই ছোট বয়স থেকে জেলখানা থেকে কোন ভাবে পালিয়ে আসেন তিনি।  একের পর এক অপরাধে আটক হোন আর পালিয়ে আসেন এই ভাবে পার হয়ে গেল তিন দশক। কারাগার থেকে পালিয়ে আসা যেন তার কাছে সহজ ব্যাপার। ২০১৬ সালে একবার কারাগার থেকে পালিয়ে যান গাম্বিয়াতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে রক্ষা হয়নি তার গাম্বিয়ার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ২০২০ সালে আদালতের ডাকাতির মামলায় দোষি সাব্যস্ত হন তিনি এবং তার অতীতের দূর্দান্ত জেল পালানোর ইতিহাসকে  মাথায় রেখে সেনেগালে উচু নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেখানেও তাকে বেশি দিন রাখতে পারে নি। গত মে মাসে ২০২১ সুকৌশলে সে কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্য যেন তার পিছু ছাড়ে না। তিনি বেশি দিন বাইরে থাকতে পারেন নি।  এই তো কিছু দিন আগে মালি সীমান্ত থেকে বেচারাকে গ্রেফতার করে সেনেগাল পুলিশ। 


সেনেগালে আই চ্যানেলে শেষ সাক্ষাতকারে তিনি জানান -

কারাগারের ভেন্টিলেটরের গ্রিল ভেঙ্গে দার বেয়ে দেয়াল টপকে তিনি বারংবার পালাতে সক্ষম হয়েছেন। বারংবার পালানোর পেছনে সেনেগালের নড়বরে ধীর গতিতে চলা বিচার ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন।  মূলত দীঘ দিন বিচারকার্য পরিচালনার কারনে তিনি কারাগারে অতিষ্ঠ হয়ে যেতেন। 

সর্বশেষ একটি ডাকাতির অভিযোগে ৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন মদুউ। বারবার কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারনে এখন তাকে মোষ্ট ওয়ানটেড আসামীদের হাই সিকিউরিটি কারাগারে রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন- আমি জানি জেল থেকে পালানো গুরুতর অপরাধ কিন্তু বিচার ব্যবস্থা ধীর গতির কারনে আমাকে নয়টি বছর জেলে থাকতে হবে। এর জন্য দায়ী কচ্ছপের মত অগ্রগামী বিচার ব্যবস্থা। আর এই কথাও বলে রাখি সেনেগালে এমন কোন কারাগার নাই যে আমাকে বেশি দিন আটকে রাখবে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন